তবে সে প্রতিশ্রুতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর)। সংস্থাটির সেকশন ৩০১ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ ও তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তাদের ভাষায়, এ ধরনের ব্যর্থতা ‘অযৌক্তিক’ এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত বা সীমিত করে। তাই এ অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।
‘রিপোর্ট ইন সেকশন ৩০১ ইনভেস্টিগেশন: অ্যাক্টস, পলিসিজ, প্র্যাকটিসেস অব ভ্যারিয়াস ইকোনমিস রিলেটেড টু দ্য ফেইলিউর টু ইমপোজ অ্যান্ড ইফেকটিভলি এনফোর্স আ প্রহিবিশন অন দি ইম্পোর্টেশন অব গুডম প্রোডিউসড উইথ ফোর্সড লেবার’ শীর্ষক প্রতিবেদন ২ জুন প্রকাশ করে ইউএসটিআর। একই দিনে প্রকাশ হয় এ-সংশ্লিষ্ট বিবৃতি।
তদন্ত প্রতিবেদনে ইউএসটিআর বলেছে, ‘বাংলাদেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ ও সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।’ সংস্থাটির মতে, এ ব্যর্থতা একটি ‘অযৌক্তিক’ (আনরিজনেবল) বাণিজ্যিক চর্চা, যা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্বার্থকে (বার্ডেন্স অর রেস্ট্রিক্টস ইউএস কমার্স) বাধাগ্রস্ত করে। এ বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি দিলেও তা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে বিষয়টি একটি অযৌক্তিক বাণিজ্যিক চর্চা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদনসংক্রান্ত ইউএসটিআরের বিবৃতিতে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। এর ফলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যেখানে মার্কিন শ্রমিকদের বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হচ্ছে। আমরা আর এ বৈষম্য মেনে নেব না।’
তিনি বলেন, ‘কিছু বাণিজ্য অংশীদার ইউএসএমসিএ এবং এআরটির মতো চুক্তির মাধ্যমে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে বৈশ্বিক বাণিজ্য যেন কোনোভাবেই জোরপূর্বক শ্রমকে উৎসাহিত বা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না দেয়, তা নিশ্চিত করতে আমাদের সব অংশীদারকেই আরো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত এআরটির শ্রমবিষয়ক অধ্যায়ে ঢাকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিশ্রুতি দেয় যে জোরপূর্বক বা বাধ্যতামূলক শ্রম, চুক্তিবদ্ধ শ্রম এবং শিশুশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত বা খনি থেকে উত্তোলিত কোনো পণ্য দেশে আমদানি করতে দেয়া হবে না।
চুক্তির ২.৯ অনুচ্ছেদে (শ্রম) বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতি দেয়, জোরপূর্বক শ্রম বা বাধ্যতামূলক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় আইন, বিধিমালা ও বাস্তবায়ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রম অধিকার রক্ষা, শ্রম আইন কার্যকর প্রয়োগ এবং শ্রম অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রেও একাধিক অঙ্গীকার করে বাংলাদেশ।
৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের এআরটির আওতায় শ্রম অধিকার ছাড়াও বাণিজ্য সুবিধা, কৃষিপণ্য আমদানি, জ্বালানি ক্রয়, ডিজিটাল বাণিজ্য, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও সরবরাহ শৃঙ্খল সহযোগিতা নিয়ে উভয় দেশ একাধিক প্রতিশ্রুতিতে সম্মত হয়। চুক্তির শ্রম-সম্পর্কিত অঙ্গীকার বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুরো চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার প্রভাব নিয়ে ভাবতে শুরু করেছেন বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা।
ইউএসটিআরের সংশ্লিষ্ট বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব দেশ এরই মধ্যে নিজেদের দেশে জোরপূর্বক শ্রমের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত রেসিপ্রোকাল ট্রেড চুক্তির মাধ্যমে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিবৃতি ও তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ যেহেতু এআরটির মাধ্যমে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাই দেশটি ওই শ্রেণীর মধ্যে পড়ছে। অন্যদিকে যেসব দেশ এ ধরনের কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি বা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, তাদের ক্ষেত্রে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে ইউএসটিআরের এ প্রস্তাব এখনো চূড়ান্ত নয়। সংস্থাটি এ বিষয়ে জনমত, শুনানি ও লিখিত মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সেই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, এআরটির শ্রম অধ্যায়ে শুধু জোরপূর্বক শ্রমের বিষয়ই নয়, বরং শ্রমিকদের সংগঠন গঠনের অধিকার, যৌথ দরকষাকষি, শ্রম আইন প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমমান বাস্তবায়নের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ শ্রম আইনের সংস্কার, শ্রমিকদের ইউনিয়ন গঠনের অধিকারের সুরক্ষা, শ্রম অধিকারবিষয়ক অভিযোগের কার্যকর নিষ্পত্তি এবং রফতানিমুখী শিল্পাঞ্চলসহ সবখানে আন্তর্জাতিক শ্রমমান অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে শ্রম অধিকারকে দুর্বল করে বাণিজ্যিক সুবিধা অর্জনের চেষ্টা না করার অঙ্গীকারও রয়েছে চুক্তিতে।
শ্রম খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের আইন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রম নিষিদ্ধ। তবে যুক্তরাষ্ট্র যেসব ক্ষেত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, সেগুলো নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে তদন্ত করা এবং প্রয়োজন হলে আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঘাটতি দূর করা জরুরি। একই সঙ্গে বিষয়টি শুধু সরকারের নয়; ব্যবসায়ী, ট্রেড ইউনিয়ন ও মানবাধিকার সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি অভিন্ন অবস্থান তৈরি করা প্রয়োজন। তাদের মতে, জোরপূর্বক শ্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমদানি পণ্য শনাক্তকরণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ব্যবস্থার একটি জটিল প্রশ্ন, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বহুপক্ষীয় কাঠামোর মধ্য দিয়েই মোকাবেলা করা উচিত।
শ্রম সংস্কার কমিশনের প্রধান ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রথম কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের আইনে ফোর্সড লেবার নিষিদ্ধ এবং সেটা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী এটি নিষিদ্ধ, বাংলাদেশের ফৌজদারি আইনে নিষিদ্ধ, বাংলাদেশের শ্রম আইনের সর্বশেষ সংশোধনীতেও এটি যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালেই সংশ্লিষ্ট আইএলও কনভেনশন অনুসমর্থন করেছে। সুতরাং আইনগতভাবে আমরা আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মানদণ্ড অনুযায়ী চলি।’
তিনি বলেন, ‘আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যদি কোনো ঘাটতি থাকে, তাহলে সরকার সেটার উন্নয়ন ঘটাবে। আর যুক্তরাষ্ট্র যেসব জায়গা চিহ্নিত করেছে, সেগুলো নির্দিষ্টভাবে তদন্ত করা দরকার। সেখানে যদি কোনো ঘাটতি থাকে, তাহলে আমাদের পক্ষ থেকে সেটা স্পষ্ট করা উচিত। আর যদি আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সত্যিই কোনো ঘাটতি থাকে, তাহলে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এটা একটি জটিল বিষয়। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক মানদণ্ডের মধ্য দিয়েই এটাকে দেখতে হবে। এটা আন্তর্জাতিকভাবে সবাই মিলে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আইএলওর মাধ্যমে মোকাবেলা করা উচিত। সব দেশের ওপর সমানভাবে চাপ থাকতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশের ক্ষেত্রে, যেখানে আমরা ব্যবসায়িক আলোচনায় অনেক সময় দুর্বল অবস্থানে থাকি। এটা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ও জাতিসংঘ ব্যবস্থার দায়িত্বের অংশ হওয়া উচিত, কোনো একক দেশের ওপর চাপিয়ে দেয়া ঠিক নয়।’
বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু শ্রম প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রশ্ন নয়; বরং বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্রমুখী রফতানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। সম্ভাব্য অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হলে রফতানি ব্যয় বাড়বে এবং প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. এম মাসরুর রিয়াজ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য একটা বড় খড়্গ। বহু চড়াই-উতরাই, উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা পার হয়ে এআরটি সইয়ের মাধ্যমে আমরা মোটামুটি একটি কাঠামোগত চুক্তির মধ্যে এসেছিলাম। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পরও যেখানে শুল্ক ১৫ শতাংশের ওপরে যায়নি, সেখানে অতিরিক্ত শুল্ক যুক্ত হলে বাংলাদেশের রফতানি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আরো ব্যয়বহুল হয়ে যাবে। ফলে চাহিদা কমে যাওয়ার বড় ঝুঁকি রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আরেকটি বিষয় হলো আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে বিশেষ করে ভিয়েতনাম ও ভারতের ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। যদি তাদের ক্ষেত্রে শুল্ক না বাড়ে বা কম বাড়ে, তাহলে আমরা প্রতিযোগিতাগতভাবে অসুবিধায় পড়ে যাব।’
তার ভাষ্য, ‘এ মুহূর্তে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দ্রুত কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা ও দরকষাকষির প্রয়োজন হবে। কারণ আমরা শুধু এআরটি সই করিনি, বোয়িং বিমান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ১৫ বছরের এলএনজি আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সয়াবিন ও তুলার মতো কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও এগিয়েছি। তুলা আমদানির জন্য ফ্রি জোনে ওয়্যারহাউজ সুবিধা তৈরির উদ্যোগও নেয়া হচ্ছে। গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা যে ইতিবাচক অংশীদারত্বের পরিবেশ তৈরি করেছি, সেটিকে কাজে লাগিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে এ বাধা দূর করার চেষ্টা করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘একই সঙ্গে শ্রম খাতে যদি আমাদের উন্নয়নের প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র থাকে, তাহলে সেগুলো নিয়েও একটি রোডম্যাপ দেয়া যেতে পারে। এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কারণ শ্রমমানের উন্নয়ন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয়, ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য ব্যবস্থার আলোচনাতেও কাজে দেবে। তবে শুধু শ্রম ইস্যুর সমাধানের অপেক্ষায় না থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যেতে হবে এবং গত কয়েক মাসে দুই দেশের মধ্যে যে ইতিবাচক সম্পর্ক ও বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে, সেটিকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগাতে হবে।’
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টিকে শুধু শ্রমমান বা বাণিজ্য নীতির প্রশ্ন হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়বে না। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতি, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে শ্রম অধিকার ইস্যু এবং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাও এ ধরনের উদ্যোগের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিষয়টিতে ট্রাম্পের ট্যারিফ পলিসি এবং ভূরাজনীতি—দুটোরই প্রভাব থাকতে পারে। তবে আমরা যা দেখছি, সেটি তাদের অর্থনৈতিক দর্শনের প্রতিফলন। এ ধরনের বিষয়ে শুধু ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন নয়, মার্কিন কংগ্রেসসহ তাদের গোটা অর্থনৈতিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা থাকে। জোরপূর্বক শ্রমের মতো বিষয়গুলো নিয়ে তারা অনেকদিন ধরেই কথা বলছে। তবে এতদিন অন্যান্য প্রশাসন এসব বিষয়ে ছাড় দিয়ে এলেও আমার মনে হয় ট্রাম্প প্রশাসন ও ভবিষ্যতের অন্যান্য প্রশাসনও শক্ত অবস্থান নিতে পারে। আমাদের উচিত এখন এ ইস্যু সমাধানে গভীরভাবে মনোযোগী হওয়া। নইলে সামনের দিনগুলোয় শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন এমনকি প্রতিবেশী ভারতও এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। আর আমরা যে এর সমাধান করতে পারি, সেটা আমরা ১৯৯২ সালেই দেখিয়েছি। আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, শিশুশ্রমের সমস্যাটিকে মোকাবেলা করতে পেরেছি। বর্তমান প্রশ্নটিকেও যদি আমরা গভীর মনোযোগের সঙ্গে সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই, তাহলে অবশ্যই পারব।’
ইউএসটিআর জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার বিষয়ে অংশীজনদের কাছ থেকে লিখিত মতামত ও শুনানির আবেদন গ্রহণ করা হবে। এসব মতামত পর্যালোচনার পর সংস্থাটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিষয়টি এখন কেবল একটি শুল্ক তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এআরটির অধীনে দেয়া শ্রম-সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রফতানি সক্ষমতা—তিনটি বিষয়ই এখন নতুন করে পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
ইউএসটিআরের তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে গতকাল প্রতিক্রিয়া জানতে বাণিজ্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।